Featured

ফিরে দেখা ২১শে ফেব্রুয়ারির কিছু কবিতার জন্মকথা

কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি কবিতাটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে লিখিত প্রথম কবিতা। এই জন্য কবিতাটিকে একুশের প্রথম কবিতাও বলা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কবিতাটি রচনা করেন ভাষাসৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরী।১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ঢাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষনের খবর শুনে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে বসে কবিতাটি রচনা করেন ভাষাসৈনিক কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী। একুশের এই কবিতার সাথে মিশে আছে অনেক আত্মত্যাগের ইতিহাস।

যারা আমার মাতৃভাষাকে নির্বাসন দিতে চেয়েছে
তাদের জন্য আমি ফাঁসি দাবি করছি।
যাদের আদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তাদের জন্য
ফাঁসি দাবী করছি।
ফাঁসি দাবী করছি যারা এই মৃতদেহের ওপর দিয়ে
ক্ষমতার আসনে আরোহণ করেছে
সেই বিশ্বাসঘাতকদের জন্যে।
আমি তাদের বিচার দেখতে চাই
খোলা ময়দানে সেই নির্দিষ্ট জায়গাতে
শাস্তিপ্রাপ্তদের গুলিবিদ্ধ অবস্থায়
আমার দেশের মানুষ দেখতে চায়।

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরও বেশি
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে,রসনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায়
ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য, বাংলার জন্য
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য
আলাওলের ঐতিহ্য
কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের
সাহিত্য ও কবিতার জন্য
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
পলাশপুরের মকবুল আহমদের
পুঁথির জন্য, রমেশ শীলের গাঁথার জন্য
জসীমউদ্দীনের সোজন বাঁধিয়ার ঘাটের জন্য
যারা প্রাণ দিয়েছে
ভাটিয়ালি বাউল কীর্তন গজল
নজরুলের ‘খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি’।

হে আমার মৃত ভাইরা,
সেইদিন নিস্তব্ধতার মধ্য থেকে তোমাদের কণ্ঠস্বর
স্বাধীনতার বলিষ্ঠ চিৎকার
ভেসে আসবে
সেইদিন আমাদের দেশের জনতা
খুনি জালিমকে ফাঁসির কাষ্ঠে
ঝুলাবেই ঝুলাবে
তোমাদের আশা অগ্নিশিখার মতো জ্বলবে
প্রতিশোধ এবং বিজয়ের আনন্দে।

বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
-শামসুর রাহমান

নক্ষত্রপুঞ্জের মতো জ্বলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়।
মমতা নামের পুত প্রদেশের শ্যামলিমা
তোমাকে নিবিড় ঘিরে রয় সর্বদাই।
কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরে শিউলী-শৈশবে
‘পাখি সব করে রব’ বলে মদনমোহন তর্কালঙ্কার
কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক।
তুমি আর আমি অবিচ্ছিন্ন পরষ্পর মমতায় লীন,
ঘুরেছি কাননে তাঁর নেচে নেচে, যেখানে কুসুমকলি সবই ফোটে
জোটে অলি ঋতুর সংকেতে।
আজন্ম আমার সাথী তুমি,
আমাকে স্বপ্নের সেতু দিয়েছিলে গড়ে পলে পলে,
তাইতো ত্রিলোক আজ সুনন্দ জাহাজ হয়ে ভেড়ে আমারই বন্দরে।
গলিত কাঁচের মতো জলে ফাৎ না দেখে দেখে
রঙিন মাছের আশায় ছিপ ধরে কেটে গেছে বেলা।
মনে পড়ে, কাঁচি দিয়ে নক্সা কাটা কাগজ এবং বোতলের ছিপি ফেলে
সেই কবে আমি ‘হাসি খুশি’র খেয়া বেয়ে
পৌঁছে গেছি রত্নদ্বীপে কম্পাস বিহনে।
তুমি আসো আমার ঘুমের বাগানেও
সে কোন বিশাল গাছের কোঠর থেকে লাফাতে লাফাতে
নেমে আসো, আসো কাঠবিড়ালীর রূপে, ফুল্ল মেঘমালা থেকে
চকিতে ঝাঁপিয়ে পড়ো ঐরাবত সেজে,
সুদূর পাঠশালার একান্নটি সতত সবুজ মুখের মতোই
দুলে দুলে ওঠো বার বার কিংবা টুকটুকে লঙ্কা-ঠোঁট টিয়ে হয়ে
কেমন দুলিয়ে দাও স্বপ্নময়তায় চৈতন্যের দাঁড়।
আমার এ অক্ষিগোলকের মধ্যে তুমি আঁখি-তারা।
যুদ্ধের আগুনে, মারীর তাণ্ডবে
প্রবল বর্ষায় কি অনাবৃষ্টিতে
বারবণিতার নূপুর নিক্বনে
বণিতার শান্ত বাহুর বন্ধনে
ঘৃণায় ধিক্কারে, নৈরাজ্যের এলোধাবাড়ি চিৎকারে
সৃষ্টির ফাল্গুনে, হে আমার আঁখিতারা
তুমি উন্মীলিত সর্বক্ষণ জাগরণে।
তোমাকে উপড়ে নিলে, বলো তবে কী থাকে আমার ?
উনিশশো’ বাহান্নোর কতিপয় তরুণের খুনের পুষ্পাঞ্জলি
বুকে নিয়ে আছো সগৌরবে মহীয়সী। সে ফুলের একটি পাপড়িও আজ
ছিঁড়ে নিতে দেব না কাউকে।
এখন তোমাকে ঘিরে ইতর বেলেল্লাপনা চলছে বেদম।
এখন তোমাকে নিয়ে খেংরার নোংরামি
এখন তোমাকে ঘিরে খিস্তি-খেউরের পৌষমাস।
তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো,
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
লেখকঃ শামসুর রাহমান

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতায় প্রস্ফুটিত হয়েছে সংঘবদ্ধ প্রতিবাদী আন্দোলন। এখানে কবি স্বাধিনতাকামী মানুষের চেতনাবোধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সাধারণ জনতাই ছিল এই প্রতিবাদের হাতিয়ার। এই কবিতায় জিবনের তাৎপর্যের দার্শনিকতার উন্মোচন ঘটেছিল।
১৯৬৯-এর পাকিস্তানি শাসকদের নির্মম অত্যাচার, স্বৈরতান্রিক মনোভাব, অমানবিক নিষ্ঠুরতায় পূর্ববাংলায় মাওনবিকতার ধ্বংসযজ্ঞ কবিতাটিতে বর্ণিত হয়েছে।

আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে
কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিলে কখনো-বা
একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়- ফুল নয়, ওরা
শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।
একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।
এ রঙের বিপরীতে আছে অন্য রং,
যে-রং লাগে না ভাল চোখে, যে রং সন্ত্রাস আনে
প্রাত্যহিকতায় আমাদের মনে সকাল-সন্ধ্যায়
এখন সে রঙে ছেয়ে গেছে পথ-ঘাট, সারা দেশ
ঘাতকের অশুভ আস্তানা।
আমি আর আমার মতোই বহু লোক
রাত্রি-দিন ভূলুণ্ঠিত ঘাতকের আস্তানায় কেউ মরা, আধমরা কেউ,
কেউ বা ভীষণ জেদি, দারুণ বিপ্লবে ফেটে পড়া। চতুর্দিকে
মানবিক বাগান, কমলবন হচ্ছে তছনছ।
বুঝি তাই উনিশশো উনসত্তরেও
আবার সালাম নামে রাজপথে, শূন্যে তোলে ফ্ল্যাগ,
বরকত বুক পাতে ঘাতকের থাবার সম্মুখে।
সালামের চোখে আজ আলোচিত ঢাকা,
সালামের মুখ আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা।
দেখলাম রাজপথে, দেখলাম আমরা সবাই
জনসাধারণ
দেখলাম সালামের হাত থেকে নক্ষত্রের মতো
ঝরে অবিনাশী বর্ণমালা
আর বরকত বলে গাঢ় উচ্চারণে
এখনো বীরের রক্তে দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে
ফোটে ফুল বাস্তবের বিশাল চত্বরে
হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায় । সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ,
শিহরিত ক্ষণে ক্ষণে আনন্দের রৌদ্রে আর দুঃখের ছায়ায় ।

আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও
আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও
নির্মলেন্দু গুণ

তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব,
আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও।

এই নাও আমার যৌতুক, এক-বুক রক্তের প্রতিজ্ঞা।
ধুয়েছি অস্থির আত্মা শ্রাবণের জলে, আমিও প্লাবন হব,
শুধু চন্দনচর্চিত হাত একবার বোলাও কপালে।
আমি জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে উড়াব গাণ্ডীব,
তোমার পায়ের কাছে নামাব পাহাড়।
আমিও অমর হব, আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও।

পায়ের আঙুল হয়ে সারাক্ষণ লেগে আছি পায়ে,
চন্দনের ঘ্রাণ হয়ে বেঁচে আছি কাঠের ভিতরে।
আমার কিসের ভয়?

কবরের পাশে থেকে হয়ে গেছি নিজেই কবর,
শহীদের পাশে থেকে হয়ে গেছি নিজেই শহীদ,
আমার আঙুল যেন শহীদের অজস্র মিনার হয়ে
জনতার হাতে হাতে গিয়েছে ছড়িয়ে।
আমার কিসের ভয়?

তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব,
আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও
এই দেখো অন্তরাত্মা মৃত্যুর গর্বে ভরপুর,
ভোরের শেফালি হয়ে পড়ে আছে ঘাসে।
আকন্দ-ধুন্দুল নয়, রফিক-সালাম-বরকত-আমি;
আমারই আত্মার প্রতিভাসে এই দেখ আগ্নেয়াস্ত্র,
কোমরে কার্তুজ,
অস্থি ও মজ্জার মধ্যে আমার বিদ্রোহ,
উদ্ধত কপাল জুড়ে যুদ্ধের এ-রক্তজয়টিকা।

আমার কিসের ভয়?
তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব,
আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও।

 

https://poetrycompetitionblog.wordpress.com/2018/02/18/seeing-the-birth-of-some-poems-in-the-bangladesh-21st-february/

Advertisements

যুব এশিয়া কাপের দল ঘোষণা

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এশিয়া কাপ। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের ভেন্যুতে অনুষ্ঠিতব্য এ প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ‘এ’ গ্রুপে খেলবে ভারত, আফগানিস্তান, নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও হংকং।

উদ্বোধনী দিনে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। যুব এশিয়া কাপের ‘এ’ গ্রুপের খেলাগুলো হবে ঢাকায়, বিকেএসপির মাঠে। আর ‘বি’ গ্রুপের খেলা হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ এবং এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে।

তবে দুই সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল ম্যাচ হবে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল: তৌহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), শামিম হোসেন (সহঅধিনায়ক), তানজিদ হাসান তানিম, সাজিদ হোসেন, প্রান্তিক নওরোজ, অমিত হাসান, আকবর আলী, শাহাদাত হোসেন, রকিবুল হাসান, মিনহাজু রহমান, রশিদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, অভিষেক দাস।

সূত্র অনলাইন।

২১শে ফেব্রুয়ারী অান্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

images (1)
২৩ ফেব্রুয়ারীর রাত, ১৯৫২;
ঢাকা মেডিকেল কলেজ সম্প্রসারণের জন্য জমিয়ে রাখা ইট বালু নিয়ে টানা হেচড়া করছে তিনজন ছাত্র, সাথে রয়েছে দুইজন রাজমিস্ত্রী। তৈরী হচ্ছে প্রথম মিনার- শহীদ মিনার। সিমেন্ট ছাড়া মিনার জমবেনা। পুরান ঢাকার পিয়ারু সর্দারের গুদাম থেকে সিমেন্ট পাওয়া গেলে সারা রাত ধরে বদিউল অালমের করা নকশাটি সকালের কিছু অাগে একটি কাঠামো পেয়ে গেলো। ঢামেক-এর ৬ নং ছাউনীর এমন এক জায়গায় মিনারটি দাড় করানো হলো যাতে রাস্তা এবং মেডিকেলের সকলের চোখে খুব সহজেই চলতে ফিরতে মিনারটি চোখে পড়ে। কাগজের উপর হাতে লেখা ‘ শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ ‘ ভেজা সিমেন্ট শুকিয়ে যাবার অাগেই সেটে বসিয়ে দেওয়া হলো। তখন ভোর ও হয়ে এসেছে; অালো ফোটা নগরীর এক ঝাক মানুষ ওদের মিনার ঘিরে রেখেছিলো- সেটা প্রভাত ফেরী নয়, ভয়ংকর ক্ষোভের স্তব্ধতা…

কালো কাপড়ে ২৫ ফেব্রুয়ারীরর পুরো দিনটি মিনারটি ঢাকা রইলো। ২৬ ফেব্রুয়ারী ভোরে তৎকালীন প্রচলিত জাতীয় পত্রিকা দৈনিক অাজাদে মিনারের ছবি সহ বড় বড় শিরোনামে ‘ শহীদ মিনারের ‘ খবর পৌছে গেলো বাংলার অলি গলিতে..

ওই দিনই তিনজন ভাষা শহীদের কোন একজনের পিতা/মাতা এবং দৈনিক অাজাদের সম্পাদক হাজার হাজার ছাত্র-জনতার সামনে বাংলার প্রথম শহীদ মিনারটি উন্মোচন করেছিলেন। চারপাশে পাকিস্তানী মিলিটারী এবং পুলিশ ঘিরে রেখেছিলো পুরোটা সময়।
মনে হচ্ছিলো উত্তপ্ত মিনার ছেড়ে ওরা সরে গেলে মিনারের সমস্ত উত্তাপ ছড়িয়ে যাবে পুরো বাংলায়।
সেই দিন দুপুর, বিকেল ফুরোনো রাতেই মিনারটি ওরা ভেঙে ফেললো।
ততক্ষণে ২১ এর এই ফেব্রুয়ারী ঢুকে গেছে প্রতিটি বাঙ্গালীর হৃদয়ে, সেই মিনার ভাঙ্গবে কিসে?

পরে ঢাকা কলেজের ভিতর ৫২ সালেই অারো একটা শহীদ মিনার তৈরী করা হলো তা ও গুড়িয়ে দেওয়া হলো সেই রাতেই।
অবশেষে বাংলাকে ১৯৫৬ সালে অফিসিয়ালী পাক সরকার রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিলে, জাতীয় শহীদ মিনারটি তৈরী এবং উদ্ভোদন করা হলো।

সেই ২১শে ফেব্রুয়ারী এখন অান্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
অাপনার শিশুকে ২১শে ফেব্রুয়ারীর সবটুকু জানতে সাহায্য করুন; কখনো ভেতরটা পচবেনা; কথা দিচ্ছি…

মায়ের ভাষায় কথা বলাতে,
স্বাধীন অাশায় পথ চলাতে;

অামাদের অনেক জীবন তো বিপন্ন হলো তবু প্রসঙ্গ যখন বাংলা তখন সমস্ত বাঙ্গালীর একাত্বতা পুরো পৃথিবী জোড়া অতুলনীয়। ভাষার জন্যে বুকের তাজা রক্তের সম্মান কেউ যে দেখাতে পারেনি! বিশ্ব যে একুশের এই ফেব্রুয়ারীতে অাপ্লুত হবেই।
তবু ও অামাদের’ই কিছু স্বজাতী খেয়াল করবেন ফেব্রুয়ারীকে মূর্তি পূজা বলবে, ধর্মের দোহাই দিয়ে পাপ করা থেকে বিরত থাকতে ফতোয়া জারী করবে; শুধু শুনবেন, কিছু বলবেন না, তবে অাঙ্গুল তুলে সবাইকে সতর্ক করবেন, বেজন্মাদের গড়ন হুবহু ওর মতন…

ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু গড়া এ ফেব্রুয়ারী,
অামি কি ভুলিতে পারি…

অপ হিংসা মুক্ত রাজনীতি

আমার মতে সুন্দর একটা বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রয়োজন অপ হিংসা মুক্ত রাজনীতি।

তবেই সম্ভব একটি সোনার বাংলাদেশ গড়া।

শুধু কাউয়া মুক্ত আওয়ামলীগ নয়, রাজনীতি কাউয়া মুক্ত হোক।

shahin99-1518890274-2b3f671_xlarge.jpg

ছবিটি আমাদের সময় থেকে নেওয়া।

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে দামী পেশা হচ্ছে-রাজনীতি, ক্ষমতার অস্ত্র হচ্ছে-রাজনীতি, নিজেকে মুগল সম্রাট বানানোর উপায় হল-রাজনীতি। তাই রাজনীতির দিকে ধাবমান সবাই। ব্যাবসায়ী, ছাত্র-শিক্ষক, লাঠিয়াল বাহিনীসহ—-অনেকে।

যেহেতু আওয়ামলীগ এখন ক্ষমতার মসনদে, শুধু ক্ষমতার মসনদে বললে ভুল বলা হবে, তারা এখন এদেশের রাজনীতিতে নিজেদের সুপার পাওয়ার হিসাবে ঘোষণা করছে। তাদের এই সুপার পাওয়ার লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে করলেও তাদের তেমন আক্ষেপ করতে দেখা যায় না। তাই ক্ষমতার লোভীরা ছুটছে রাজনীতিতে বিশেষ করে লীগের দিকে। লোভীরা প্রথমে দলে ঢুকেই টাকার একটা ঝলকানী দেখায় তাতেই দলের টপ টু বটম সবাই মুগ্ধ, দ্রুত বাগিয়ে নিচ্ছে দলের গুরুত্বপূর্ন পদ। এতে করেই প্রকৃত ত্যাগী নেতারা হারিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা হারাচ্ছি স্বপ্নময় এক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

রাজনীতিকরা যেমন একটি দেশকে ব্যার্থতায় ভরিয়ে দেয়, ঠিক তেমনি রাজনীতিকরাই পারে সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে দিতে। সুন্দর স্বপ্নময় দেশ গড়তে শুধু প্রয়োজন যোগ্য, প্রকৃত রাজনীতিবিদ। যাদের চিন্তায়-মননে শুধু দেশ থাকবে, থাকবে না পকেটভারীর চিন্তা।

প্রতিটি দলকে সজাগ থাকতে হবে যাতে করে সুযোগ সন্ধানীরা দলে ঢুকতে না পারে, অবশ্যই দেশ গনতন্ত্রহীনতাই থাকলে এসকল সুযোগ সন্ধানীরা অবাধে দলে ঢুকার সুযোগ পায় কারণ দল তখন তাদের টাকার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে।

এ দেশের রাজনীতি কাউয়া মুক্ত হোক, গনতন্ত্র গনতন্ত্রের নিয়মে চলুক তবেই আমরা আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণ করতে পারব।

আমার একজন চয়েজফুল ব্লগার শাহিন-৯৯ 

আমরা সভ্যজাতী না প্রাচীন অসভ্যজাতি এবং অসভ্যতার আধুনিক সংস্করণ?

mahfuj5857-1518903273-6a4884d_xlarge.jpg

ব্লগার মাহাফুজের এই লেখাটা আমায় বিষন বিষ্ময় করল।

আধুনিক বিশ্বের নানা হিংস্রতা আর বর্বরতার ভয়াবহ দৃশ্য দেখে কিংবা শুনে মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে-আমরা কি দিনদিন সভ্য হচ্ছি নাকি প্রাচীন অসভ্য জাতি আধুনিক সংস্করণ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি?

শুনেছি প্রাচীন আমলের মানুষ ছিলো অসভ্য, অশিক্ষিত, হিংস্র। জানতে ইচ্ছে করে কতোটুকু হিংস্র আর অসভ্য ছিলো সে আমলের মানুষ? তাদের কামউত্তেজনার জন্য কি কোলের শিশুরাও বর্তমান সময়ের মতো অনিরাপদ ছিলো? সে আমলের মানুষ জন্তু জানোয়ারদের মেরে নিজের রক্ষা করার পাশাপাশি কি সেই অসভ্য স্বজাতিকে ধবংস করতে নিউক্লিয়ার কিংবা হাইড্রোজেন বোম তৈরী করেছিলো? সেই অসভ্য সময়ে কি হিরোসিমা নাগাসাকির মতো কোনো ট্রাজেডি ছিলো?
উত্তরগুলো যদি না হয় তাহলে আমরা কিভাবে সভ্য হলাম? আমরা কেন অসভ্যতার আধুনিক সংস্করণ নয়?
যে সময়ে স্বজাতির প্রতি স্বজাতিই সবচাইতে হিংস্র, যে সময়ে স্বজাতিই চিরশত্রু, যে সময়ে নিষ্পাপ শিশু রক্ত ঝরিয়ে দুপেয়ে জীবদের কামউত্তেজনা মেটায়, যে সময়ের হাতে জন্মদাতা-জন্মদাত্রী প্রহৃত বা কখনো খুন হয়, যে সময় জনক/জননী সন্তানের হত্যাকারী রূপে আবির্ভূত হয়, যে সময়ের প্রত্যেক রক্ষক ভয়ানক রাক্ষস হয়ে উঠে, যে সময় আবরণের সকল উপকরণ থাকতেও নগ্নতায় মেতে উঠে সে সময়কে সভ্যতা কি করে বলি? সেই সময়ে বিচরণকারীদের সভ্য জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেই কিভাবে আমার জানা নেই।